banglanewspaper

বর্তমানে পরিবারের প্রায় প্রতিটি সদস্যেরই একটা করে ফোন দেখা যায়। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এই ডিভাইসটি এতই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে অল্প পয়সায় এটি কিনে ফেলা যায়। তবে এমন দিনে এসে যদি জানা যায় একটি গ্রামের ব্যবহারের জন্য মাত্র একটাই ফোন তাহলে সেটি একটু চাঞ্চল্যই সৃষ্টি করে।

তবে এটি শুধু বলার কথা বা ভেবে নেওয়া কথা বিষয়টি তা না। এমন সময় এসে সত্যিই এমন এক গ্রামের সন্ধান মিলেছে যে গ্রামের সব পরিবার মিলে ব্যবহার করেন একটি মাত্র ফোন।

উড়িষ্যা রাজ্যের আঙ্গুরজেলায় অবস্থিত দান্দাবাহালি গ্রামের ৭২টি পরিবারের বাস। আর তাদের সকলেই ব্যবহার করেন একটি মাত্র মোবাইল ফোন।

অর্থ নয় প্রধান সমস্যা নেটওয়ার্ক। অধিকাংশ ফোন কোম্পানির নেটওয়ার্ক এই গ্রামে কাজ করে না। তাই গ্রামবাসীর মোবাইল কেনার সামর্থ্য থাকলেও তারা কিনতে আগ্রহী নয়। তাছাড়া অনেকের বাড়িতে দামী ফোন থাকলেও তা দিয়ে আর যাই হোক কথা বলা যায় না।

তবে এই একটি মোবাইল ব্যবহার করতে গ্রামবাসীকে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। কারণ ফোনের মালিক বাসন্ত। গ্রামের সীমানা থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে তার একটি দোকান আছে। এই দোকানের সামনে একটি গাছে তার ফোনটি ঝুলানো থাকে। নতুবা এই ফোনেও নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস কিংবা পুলিশকে ফোন করতে হলে, অথবা দূরের আত্মীয়-স্বজনের কুশলাদি জানতে গ্রামবাসীর ভরসা বসন্তের মোবাইল। আত্মীয়-স্বজনরাও বসন্তকেই ফোন করে। বসন্ত তখন প্রয়োজনীয় খবর গ্রামে পৌঁছে দেয়। এমনকি প্রশাসনের লোকজনও প্রয়োজনে বাসন্তকে ফোন করে।

বসন্ত প্রতিদিন ভোর চারটেয় দোকান খোলে। বন্ধ করে রাত ৯টায়। এই সময়ের মধ্যে গ্রামের লোকেরা তাদের জরুরি কলগুলো সেরে নেয়। তবে এই সেবা দিতে বসন্ত টাকা নেয় না। এমনকি কিঞ্চিত বিরক্তও হয় না। কারণ হিসেবে বাসন্ত বলেন, গ্রামবাসী বিপদে পড়েই আমার কাছে ফোন করতে আসে। আমি তাদের জরুরি খবরগুলো পৌঁছে দিয়ে তৃপ্তি পাই।

ট্যাগ: bdnewshour24 পরিবার