banglanewspaper

দ্বিতীয় দিন শেষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের লাগাম স্বাগতিক পাকিস্তানের হাতে, ৩ উইকেটে রান ৩৪২। ৭ উইকেট হাতে রেখে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের লিড ১০৯ রানের।

বাংলাদেশ ২৩৩ রানে অলআউট হতেই প্রথম দিনের খেলা শেষ হয়। শনিবার নতুন সকালে মাঠে নামেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার শান মাসুদ ও আবিদ আলী। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট পাওয়ার উচ্ছ্বাসে ভাসে বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টে সেঞ্চুরি করা আবিদকে ফেরান আবু জায়েদ। তার স্টাম্পের অনেক বাইরের বল খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে, রানের খাতা না খুলেই।

ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে বেশি সময় লাগেনি পাকিস্তানের। ওপেনার মাসুদের সঙ্গে অধিনায়ক আজহার আলী ৯১ রানের জুটি গড়েন। অবশ্য এই শক্ত জুটিও ভেঙেছে জায়েদের বলে। বাংলাদেশি পেসারের আউট সুইং ডেলিভারি আজহারের ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে দাঁড়ানো নাজমুল হোসেনের হাতে জায়গা করে নেয়। ৫৯ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩৪ রানে থামেন পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন। প্রথম সেশনে ৯৫ রান দিয়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ছিল ২ উইকেট।

লাঞ্চের পর আরেকটি উইকেট পেয়েই গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ইবাদত হোসেন ক্যাচ মিস করেন বাবর আজমের। তাইজুল ইসলামের বল ডাউন দ্য উইকেটে এসে উড়িয়ে মেরেছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। হাওয়ায় ভাসতে থাকা বলে নজর রেখে মিড-অফ থেকে দৌড়ে ইবাদত দুই হাত বাড়িয়ে বল তালুতে নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আর ধরে রাখতে পারেননি। হাত গলে বল বেরিয়ে গেলে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয় বাংলাদেশের।

এর আগে সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় জীবন পান মাসুদও। বল তার ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটকিপার লিটনের গ্লাভসে জমা হলেও কোনও আবেদন ওঠেনি! বোলার রুবেল হোসেন কিংবা লিটনের কেউই বুঝতে পারেননি ক্যাচ ছিল। আবেদন হলে কিংবা রিভিউ নিলে মাসুদের ইনিংস তো শেষ হয়ে যায় তখনই। বাংলাদেশের ভুলের সুযোগটা কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানি ওপেনার তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। অবশ্য শতক পূরণের পরপরই তাইজুলের শিকার হন। ১৬০ বলে ১০০ রানের ইনিংসটি সাজানো ১১ বাউন্ডারিতে। ভাঙে ১১২ রানের শক্ত জুটি।

মাসুদের আউটের এক ওভার পরই ৩ উইকেটে ২০৬ রানে দ্বিতীয় সেশন শেষ করে পাকিস্তান। শেষ সেশনে বাবরের সঙ্গে আসাদ শফিক দাঁড়িয়ে যান। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ১০০ ছাড়ানো জুটি গড়ার পথে ২৭তম ফিফটি করেন ৮৩ বলে ৭টি চারে। আর ২০১৮ সালের নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৭ রানের ইনিংস পেছনে ফেলে ক্যারিয়ার সেরা স্কোর করেন বাবর। ১৯২ বলে ১৯ চার ও ১ ছয়ে ১৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি, আর ৬০ রানে টিকে আছেন আসাদ। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিটি ১৩৭ রানের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: দ্বিতীয় দিন শেষে

বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংস- ২৩৩

পাকিস্তান: প্রথম ইনিংস- ৮৭.৫ ওভারে ৩৪২/৩ (মাসুদ ১০০, আবিদ ০, আজহার ৩৪, বাবর ১৪৩*, আসাদ ৬০*; জায়েদ ২/৬৬, তাইজুল ১/১০১)

ট্যাগ: bdnewshour24 হতাশা বাংলাদেশের