banglanewspaper

ভারত বাংলাদেশের চেয়ে সামাজিক উন্নয়নে অনেক এগিয়ে। নিজের লেখা একটি উপ-সম্পাদকীয়তে এমনটি দাবি করেছেন ভারতের লেখক স্বতী নারায়ণ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত ওই উপ-সম্পাদকীয়তে স্বতী নারায়ণ কিছুদিন আগে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডির কঠোর সমালোচনাও করেছেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী দাবি করেছেন, নাগরিকত্ব দিলে বাংলাদেশের অর্ধেক মানুষ ভারতে চলে আসবে। তবে এই আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন স্বতী নারায়ণ।

ওই উপ-সম্পাদকীয়তে স্বতী নারায়ণ লেখেন, বাংলাদেশের সাফাল্যের পেছেনে মূল চাবিকাঠি হচ্ছে অসমতা, সামাজিক এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা। নিজের উচ্চশিক্ষার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের এই এগিয়ে যাওয়ার জন্য বেশ কিছু কারণ দেখিয়েছে স্বতী নারায়ণ।

প্রথমত, স্বাস্থ্যসেবা। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতের গড় আয়ু ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এখন দরিদ্র দেশ হয়েও বাংলাদেশে খুম কম শিশুই পাঁচ বছরের বয়সের আগে মারা যান। অর্থাৎ শিশু মৃত্যুর হার বাংলাদেশে কমেছে উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে বলে দাবি করেছে স্বতী নারায়ণ।

স্বতী নারায়ণের দাবি, বাংলাদেশের এই সফলতার পেছনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থা। আর এই কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা প্রত্যন্ত গ্রামে ওষুধ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে অবহিত করে স্বাস্থ্যখাতে বড় অবদান রাখছেন বলে মনে করেন স্বতী নারায়ণ।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষা। শিক্ষাতেও বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বতী নারায়ণ। যুব শিক্ষা, নারী শিক্ষায় ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে বলে উপ-সম্পাদকীয়তে লেখেন স্বতী নারায়ণ।স্বতী নারায়ণ বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিনা খরচে বই প্রদান করে। এছাড়া এনজিও ও মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবর্ষের প্রথম থেকে কোন বাঁধা ছাড়াই শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ পায়। ভারত এদিক দিয়েও বাংলাদেশের চেয়ে পেছানো বলে মনে করেন স্বতী নারায়ণ ।

তৃতীয়ত, পুষ্টিতেও বাংলাদেশ ভারত থেকে এগিয়ে। স্বতী নারায়ণ বলেন, বাংলাদেশের ৩৩ শতাংশ শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মায় যেখানে ভারতে এই সংখ্যা ৩৬ শতাংশ। স্বতী নারায়ণ মনে করেন বিভিন্ন এনজিও'র পুষ্টি আপা'র ধারণা বাংলাদেশকে পুষ্টিতে এগিয়ে রেখেছে। অপরদিকে ভারতের পোষণ অভিযান অন্তঃসত্ত্বাদের নিরামিষ খেতে পরামর্শ দেয়ায় এর সমালোচনা করেন স্বতী নারায়ণ।

চতুর্থত, টয়লেট। বাংলাদেশের প্রায় ৮০ ভাগ বাড়িতে নিজস্ব টয়লেট রয়েছে। কারণ ইসলাম ধর্মে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট বানানোর বিষয়ে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার থেকেও বিনা খরচে দরিদ্র মানুষদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। যেখানে ভারতে এখনো অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেন।

এছাড়াও স্বতী নারায়ণ বাংলাদেশ গার্মেন্টস সেক্টর, জুট মিলস, পোল্ট্রি এবং দুগ্ধ শিল্পে নারীদের অবদানের প্রশংসা করেন। আর নাগরিকত্ব আইনের সমালোচনা করে ভারতীয় সরকারকে মুসলিম বিদ্বেষী চিন্তাভাবনা থেকে সরে এসে সোনার বাংলা থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 বাংলাদেশ শিক্ষা ভারত