banglanewspaper

বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রশ্নে প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর চাক গ্রাসলির বক্তব্যকে ‘ডাহা বানোয়াট’ বলে মন্তব্য করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, তার মতো সিনিয়র (জ্যেষ্ঠ) সিনেটরের না জেনে এমন মন্তব্য করা ঠিক হয়নি।

আজ শনিবার ঢাকা টাইমসের সঙ্গে একান্ত আলাপে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে বাংলাদেশিদের একাংশকে নিপীড়নের শিকার হতে হয় বলে সম্প্রতি এক বিবৃতিতে দাবি করেন সিনেটর গ্রাসলি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। তার বক্তব্য একেবারে ডাহা বানোয়াট, মিথ্যা কথা। উনি (গ্রাসলি) দেখছেন না মিয়ানমার, চীন ও ভারতে কী হচ্ছে? এই দেশে সব সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু একসঙ্গে বসবাস করছে। এখানে সবাই মিলে যেভাবে শান্তিতে বসবাস করছে বিশে^র অন্য কোথাও এমনটা আছে কি না আমার সন্দেহ হয়।’

মার্কিন সিনেটর চাক গ্রাসলি গত মঙ্গলবার ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রশ্নে রাশিয়া, বাংলাদেশ ও সুদানের মতো দেশগুলোয় বসবাসরত নাগরিকদের সহায়তা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এই দেশগুলো স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করছে এবং শুধু ধর্ম ও ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।’

চাক গ্রাসলি মার্কিন সিনেটের শক্তিশালী অর্থনৈতিক কমিটির চেয়ারম্যান। রাজনৈতিকভাবে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

বাংলাদেশ নিয়ে এই প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটরের বক্তব্য অযাচিত বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। তিনি বলেন, ‘এই রকম একজন সিনিয়র সিনেটর কীভাবে সাবজেকটিভ জাজমেন্ট করল? না জেনে এমন মন্তব্য করা তার ঠিক হয়নি। আমার মনে হয়, তার অফিস নিশ্চয় তাকে সঠিক ব্রিফিং করেনি।’

যুক্তরাষ্ট্র ধর্মীয়ভাবে অসহিষ্ণু দেশের দুইটি তালিকা করেছে। ওই তালিকায় কম ধর্মীয় অসহিষ্ণু দেশ হিসেবে নাম রয়েছে বাংলাদেশের। এই তালিকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে তালিকা করেছে সেখানে ধর্মীয়ভাবে কম অসহিষ্ণুর তালিকায় কীভাবে বাংলাদেশকে রাখে সেটাই আমি বুঝতে পারছি না। তারা তালিকায় টায়ার ১, ২ ও ৩ করেছে। অথচ আমরা সবগুলোর ঊর্ধ্বে।’ বাংলাদেশ দূতাবাস  মার্কিন সিনেটরের বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর চাক গ্রাসলির বিবৃতির দুই দিন পর এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস তাকে তার বক্তব্য সংশোধনের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে দূতাবাস।

ওই সিনেটরের বক্তব্য ‘পক্ষপাতমূলক ও হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ দূতাবাসের মুখপাত্র শামিম আহমেদ বলেন, সিনেটর গ্রাসলির বক্তব্য সত্যের অপলাপ। বাংলাদেশ দূতাবাস ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছে এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

শামীম বলেন, ‘দূতাবাস পরিষ্কার ভাষায় বলছে, মার্কিন সিনেটর গ্রাসলির বিবৃতি ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি মার্কিন কমিশনের ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

বাংলাদেশের সম্প্রীতি, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজ চোখে দেখার জন্য  মার্কিন সিনেটর গ্রাসলিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান শামিম আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘দূতাবাস পরিষ্কার ভাষায় বলছে, মার্কিন সিনেটর গ্রাসলির বিবৃতি ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি মার্কিন কমিশনের ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

বাংলাদেশের সম্প্রীতি, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজ চোখে দেখে আসার জন্য মার্কিন সিনেটর গ্রাসলিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান শামিম আহমেদ।

বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে ভুল বার্তা দেওয়া কিংবা ভুল বার্তা প্রচার হতে দেখা যায় প্রায়ই। গত বছরের জুলাই মাসে প্রিয়া সাহা নামের একজন নারী মার্কিন প্রশাসনে এ ধরনের ভুল বার্তা গিয়েছিলেন। তাতে আলোড়ন উঠেছিল বাংলাদেশের সরকারসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে।

গত বছর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আয়োজিত ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া বিভিন্ন দেশের অন্তত ২৭ জন প্রতিনিধিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ওভাল অফিসে ডাকেন। সেখানে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা ছিলেন।

তিনি ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ৩৭ মিলিয়ন সংখ্যালঘু নিখোঁজ হয়েছে। আর ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু রয়েছে। তাদের রক্ষায় রক্ষায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্য চান প্রিয়া সাহা।

ট্যাগ: bdnewshour24 পররাষ্ট্রমন্ত্রী