banglanewspaper

এম,লুৎফর রহমান,নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ২ দিন ব্যাপী সরেজমিন তদন্ত শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগকারী ও মামলার বাদীকে সাথে নিয়ে দুদক কর্মকর্তা উপ সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম তদন্তকাজ সম্পন্ন করেন।

তদন্তকালে অসত্য প্রকাশ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, মামলার বাদীসহ এলাকাবাসীকে হুমকী দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টুর বিরুদ্ধে। সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য সুজিত সূত্রধর এর অভিযোগ ও মামলার প্রেক্ষিতে ২য় দফা তদন্ত করে দুদক। এর আগে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ করা হলে নরসিংদী সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী আনিছুর রহমান মন্ডল সরেজমিনে তদন্ত করে ৩৭ টি প্রকল্পের মধ্যে ১৮ টি প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে গত ৩০/০৭/২০১৭ তারিখ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্তে দুর্নীতি প্রমানিত হওয়া সত্বেও চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অভিযোগকারী বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত নরসিংদীতে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ০২/২০১৯। এ মামলার প্রেক্ষিতে দুদক নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৩ জন প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন। দুদকের তদন্তকালে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সরেজমিনে সাংবাদিকগণ স্থানীয় লোকজন এর সাথে কথা বলেছেন, ঘটনার সত্যতা উপলব্ধি করেছেন।

তদন্তকালে চোখে পড়ে চেয়ারম্যান সমর্থিত লোকজনের মহড়া। কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী, হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামীরা চেয়ারম্যানের পাশে থেকে মামলার বাদী ও অভিযাগকারী সুজিত সূত্রধরকে লক্ষ্য করে অশালিন উক্তি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। তাছাড়া স্থানীয় লোকজনকে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট সত্য প্রকাশ করতে বারণ করেছে।

ভয়ভীতি উপেক্ষা করে যারা স্বাক্ষী দিতে কর্মকর্তাদের সামনে এসেছে তাদের প্রকাশ্যে হুমকী দিয়েছে চেয়ারম্যান ও তার সমর্থিত লোকজন। ভয়ে সত্য প্রকাশে এগিয়ে আসেনি স্থানীয়রা। ২০ ফেব্রুয়ারি সাবেক চেয়ারম্যান মহালম সরকার এর বাড়ীর পাশের ১২ নং প্রকল্প পরিদর্শনে যায় দুদক। প্রকল্পটি ছিল হাজীপুর হক সাহেবের বাড়ী হইতে হান্নান সরকারের বাড়ী পর্যন্ত ইটের সলিং কাজ। এ কাজের প্রকল্প সভাপতি ছিল সাবেক ইউপি সদস্য সুদাম পাল। হক সাহেব ও হান্নান সরকার এর বাড়ী পাশাপাশি, এখানে রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজন নেই।

যে রাস্তাটি দিয়ে এ এলাকার লোকজন চলাচল করে সেটি স্থানীয় লোকজন চাঁদা দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে ইটের সলিং করে রাস্তা নির্মাণ করেছে। চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টু এ রাস্তাটি উক্ত প্রকল্পের অর্থায়নে করা হয়েছে দাবী করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী শামিম সরকার ও সাবেক চেয়ারম্যান মাহে আলম সরকার তদন্ত কর্মকর্তাদের নিকট চেয়ারম্যানের দাবীর প্রতিবাদ করে স্বাক্ষ্য দেন। এতে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হন চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টু। চেয়ারম্যান ও তার লোকজন মারমুখী হয়ে তেড়ে আসে। এ অবস্থায় হট্টগোলের সৃষ্টি হলে প্রকৌশলীরা চেয়ারম্যানের দেখানো মতে অন্য রাস্তা পরিমাপ করে স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় চেয়ারম্যানের লোকজন দুদক কর্মকর্তা ও তার তদন্ত দলের সদস্যদের বহনকারী অটো গাড়ীটি ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। তারা দুদক কর্মকর্তাকে সকল প্রকল্পের কাজ শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে বলে বুঝানোর চেষ্টা করে। তারা কর্মকর্তাদের বহনকারী গাড়ীর উপর হামলার দায় সাবেক চেয়ারম্যান মহালম সরকার ও তার লোকজনের উপর চাপানোর চেষ্টা চালায় এবং দোষারোপ করতে থাকে। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুদক কর্মকর্তা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ২০১৭ সালে প্রকল্প গুলোর তদন্তকালে চেয়ারম্যান বাহিনীর সম্ভাব্য হামলার ভয়ে সার্বক্ষনিক পুলিশ সঙ্গে রাখতে হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

তদন্তকালে দেখা যায়,

১ নং প্রকল্পের নাম হাজীপুর পুরানপাড়া ব্রীজের উত্তর পাশে সিসি ঢালাই এর কাজ। প্রকল্প সভাপতি ইউসুফ খান পিন্টু প্রকল্পের স্থান দেখায় আরশীনগর কালী বাবুর ব্রীজ। ব্রীজের উত্তর পাশে পৌরসভার আওতাধীন স্থানে সিসি ঢালাই হয়েছে এমন বুঝাতে চেষ্টা করে কর্মকর্তাদেরকে। ২০১৭ সালের তদন্তে এ প্রকল্পে কোন কাজ হয়নি। পুরো টাকা আত্মসাৎ হয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই সময় এ স্থানকে প্রকল্পের স্থান দেখানো হয়নি।

২নং প্রকল্প: হাজীপুর আদর্শগ্রামে বসবাসকারীদের জন্য দুটি টিউবওয়েল ও লেট্রিন স্থাপন। পূর্বের তদন্তে প্রকল্প ব্যায় ১ লাখ টাকা হলেও প্রায় ৮১ হাজার টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

৩ ও ৪ নং প্রকল্প: হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের মাঠে মাটি ভরাট কাজ। পূর্বের তদন্তে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। প্রকল্প সভাপতি ছিলেন চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টু।

৫ ও ৬ নং প্রকল্প: হাজীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তায় আরসিসি পাইপ স্থাপন। প্রকল্প ব্যায় ২ লক্ষ টাকা। পূর্বের তদন্তে চেয়ারম্যান ও সচিব কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পুরো টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এবার দেখানো হয়েছে প্রায় ৩০টি পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারী বলেন এ পাইপ গুলো ৪০ দিনের কর্মসূচীর টাকায় স্থাপন করা হয়।

৭ নং প্রকল্প: হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের মাঠে মাটি ভরাট-পর্ব-১। এ কাজের পুরো দেড়লক্ষ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে পূর্বের তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে। পূর্বে এ প্রকল্পের কোন কমিটির কাগজ তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট উপস্থাপন করা হয়নি। এবারও কোন কমিটির কাগজ তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট দেয়া হয়নি।

৮ নং প্রকল্প: হাজীপুর পাতিলবাড়ী ব্রীজ সংস্কার কাজ। প্রকল্প ব্যায় প্রায় ১ লাখ উনচল্লিশ হাজার টাকা। প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য মালা রানী। এ প্রকল্পে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে পূর্বের তদন্ত কমিটি রিপোর্ট পেশ করেন।

৯ নং প্রকল্প: হাজীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তায় আরসিসি পাইপ স্থাপন। প্রকল্প সভাপতি মালা রানী। পূর্বের তদন্ত কমিটি এ প্রকল্পের পুরো ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এবার দুদকের তদন্ত কমিটির নিকট পাইপ স্থাপনের বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারেনি।

১০ নং প্রকল্প: হাজীপুর ২ নং ওয়ার্ডে মাইনুদ্দিনের বাড়ী হতে জহু মুন্সীর বাড়ী পর্যন্ত ইটের সলিংকরণ। পূর্বে তদন্তে প্রকল্পের পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এবার দুদকের তদন্তকালে দেখানো ইটের সলিংটি প্রকল্পের সভাপতি মালা রানী ৯ বছর আগে করেছেন বলে উল্লেখ করেন। ওই সময় মহিলা ইউপি সদস্য লিপি সাহা এ রাস্তার কাজটি করেন বলে স্থানীয়রা জানান। তখন চেয়ারম্যান ছিলেন মহালম সরকার।

১১ নং প্রকল্প: হাজীপুর পেশকারের বাড়ী হতে মুতি মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামত। তারিখ ৯/১/২০১৪। ওই সময়ে ৪০ দিনের কর্মসূচীর আওতায় এ রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ করা হয়। এ প্রকল্পের কোন টাকা মাটি ভরাটে ব্যবহার না হয়ে পুরো ৪৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন মালা রানী। স্থানীয়রা স্বীকার করেন মালা রানীর অধিনে মাটি ভরাট করা হয়। কিন্তু তারা জানতে পারেনি কোন প্রকল্পের অধীনে কাজটি হয়েছে।

১৩ নং প্রকল্প: হাজীপুর চকপাড়া মোমেন এর বাড়ী হতে কামালের বাড়ী পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ। প্রকল্প সভাপতি সুদাম পাল। এ ড্রেন নির্মাণের কাজটি ৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন উপজেলা পরিষদ। একই কাজের উপর প্রকল্প দেখিয়ে ১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পূর্বের তদন্তে আত্মসাতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

১৪ নং প্রকল্প: বাদুয়ারচর উত্তরপাড়া মিজান মিয়ার বাড়ী হইতে সিদ্দিক মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ। প্রকল্প সভাপতি ছিলেন আলতাফ হোসেন। পূর্বের তদন্তে প্রকল্প ব্যায় ১ লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়।

১৫ নং প্রকল্প: বদরপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের রাস্তার দুইপাশের গাউড ওয়াল নির্মাণ। প্রকল্প সভাপতি ছিলেন মাসুদ রানা। পূর্বের তদন্তে প্রকল্পের পুরো ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুদকের তদন্তে কোন গাইড ওয়াল পাওয়া যায়নি।

১৬ নং প্রকল্প: হাজীপুর মনুবাবুর বাড়ী হইতে গৌড় হরির বাড়ী পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ। প্রকল্প সভাপতি ছিলেন প্রদীপ দাস। পূর্বের তদন্তে ও স্থানীয়দের মতে এলাকার লোকজন চাঁদা তুলে এ ড্রেন নির্মাণ করেন। প্রকল্পের পুরো ১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

১৭ নং প্রকল্প: হাজীপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন রাস্তায় আরসিসি পাইপ স্থাপন। প্রকল্প সভাপতি ছিলেন হাসনা বেগম। পূর্বের তদন্তে কাজ না করে প্রকল্পের পুরো ১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্তের পর জানতে পেরে হাসনা বেগম লিখিত ভাবে নরসিংদী জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন যে, তিনি এ প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন না।

১৮ নং প্রকল্প: হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের লেট্রিন মেরামত। এ কাজে প্রায় ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ১২ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে পূর্বের তদন্তে উল্লেখ করা হয়। প্রকল্পের সভাপতি জেলা প্রশাসক বরার লিখিত ভাবে জানান তিনি প্রকল্পের সভাপতি নন।

এদিকে গত ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি দুদকের তদন্তকালে চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টু তার অনুগত ইউপি সদস্য এবং তার সমর্থিত লোকজন তদন্তের সময়কালে পুরো সময় জুড়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের আগলে রাখেন। সমর্থিত লোকজন প্রকল্পের বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন। চেয়ারম্যানের লোকজনের হুমকীর মুখে স্থানীয় লোকজন ও মামলার বাদী ছিলেন ভীত সন্ত্রস্ত। ২০ ফেব্রুয়ারি তদন্তকালে সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বের ফলে মামলার বাদী প্রাণ রক্ষার্থে তদন্তস্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টু জানান, প্রকল্পের কোন টাকা আত্মসাৎ করা হয়নি। জনগনের সুবিধার্থে একস্থানের পরিবর্তে অন্য স্থানে কাজ করা হয়েছে কিছু কিছু প্রকল্পে। অভিযোগকারী মিথ্যা তথ্য দিয়ে একের পর এক অভিযোগ ও মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানী করছে। সাবেক চেয়ারম্যান মাহে আলম সরকার বলেন, ইউসুফ খান পিন্টু একজন সন্ত্রাসী। আমার দুই ভাইকে সে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করেছে। আমাকে হত্যা করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনি। তদন্তকালে এলাকাবাসীর ছদ্ধবেশে দুদক কর্মকর্তাদের ঘিরে রেখেছিল পিন্টুর লোকজন ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। বহু প্রকল্পের টাকা সে ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছে। আমার আমলের কাজের উপর সে প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রতিবাদ করলে সে ও তার লোকজন তদন্তকালে আমার দিকে মারমুখী হয়ে তেড়ে আসে।

২০১৭ সালে উপজেলা প্রকৌশলী এসব প্রকল্পের দুর্নীতির তদন্ত করেন। তিনি সরেজমিনে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তদন্ত করলে সে রিপোর্টে দুর্নীতির চিত্র বেড়িয়ে আসে। আমরা হাজীপুরবাসী দুর্নীতিবাজ পিন্টু চেয়ারম্যান ও তার দুর্নীতির বিচার চাই। কোন প্রকার অপশক্তি যেন এ তদন্তকাজ প্রভাবিত করতে না পারে এ অনুরোধ জানাচ্ছি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে।

এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শামীম সরকার বলেন, সকল প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে শতভাগ। এখনও দুর্নীতি হচ্ছে। সন্ত্রাসী ইউসুফ খান পিন্টু আমাকে পূর্বে হত্যার চেষ্টা করেছে। তার লোকজন আমাকে কুপিয়ে আহত করেছে। একটি রাস্তার বিষয়ে দুদক কর্মকর্তা আমার নিকট জানতে চাইলে আমি বলি প্রকল্পে উল্লেখিত হক সাহেবের বাড়ী হতে হান্নান সরকারের বাড়ী পর্যন্ত কোন রাস্তার অস্তিত্ব নেই। কারণ হক সাহেব ও হান্নান সরকার পাশাপাশি বাড়ীতে অবস্থান করেন।

পিন্টু চেয়ারম্যান দুদকের তদন্তকারী দলের কাছে যে ইট সলিং রাস্তাটি সে করেছে বলে উল্লেখ করেন সে রাস্তা এবং তৎসংলগ্ন ড্রেন মাহে আলম সরকার এর আমলে হয়েছে। আমরা এলাকাবাসী প্রতিটি ঘর থেকে টাকা তুলে এ ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণ করি। আশে পাশের লোকজন একই কথা বলেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের নিকট সঠিক তথ্য দেয়ায় সন্ত্রাসী পিন্টু ও তার লোকজন আমার দিকে মারমুখী হয়ে তেড়ে আসে। হট্টগোল সৃষ্টি করে। তদন্তের পূর্ব থেকেই এলাকাবাসীকে তারা কোন কথা না বলার জন্য হুমকী দিয়েছে।

অভিযোগকারী ও দুর্নীতি মামলার বাদী সাবেক ইউপি সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুজিত সূত্রধর বলেন, পূর্বের তদন্তে দুর্নীতির বিষয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তা উপজেলা প্রকৌশলী প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে দুর্নীতির বিষয়টি প্রমানিত হয়েছে। দুদকের তদন্তকালে কর্মকর্তাদের সাথে আমি উপস্থিত ছিলাম। চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পিন্টুর সাথে ছিল এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কিলার। তদন্তকালে পিন্টু ও তার কিলার বাহিনী সার্বক্ষনিক আমাকে মেরে ফেলার হুমকী দিয়েছে। আমি নিরাপত্তাহীন ছিলাম। যে কোন সময় সে ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে আমি আক্রান্ত হতে পারি। তদন্তকালে চেয়ারম্যান একটি কাজও ভালভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস দুদকের তদন্তে দুর্নীতি শতভাগ প্রমানিত হবে।

স্থানীয়রা জানান, দুদকের তদন্তের প্রতি তারা সন্তুষ্ট। সরেজমিনে এমন তদন্ত করতে আমরা দেখিনি। আমাদের বিশ্বাস এ তদন্তে সঠিক দুর্নীতির চিত্র বেড়িয়ে আসবে। মিথ্যা তথ্য দেয়াও অপরাধ এবং এটাও একটি দুর্নীতি। তদন্তকাজে আন্তরিক ছিলেন দুদক কর্মকর্তা। তদন্ত শেষে দুদক কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আমরা সরেজমিনে তদন্ত করেছি। যা পেয়েছি তা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করব। তদন্তের স্বার্থে আমরা এখন কিছু বলতে পারছিনা।

ট্যাগ: bdnewshour24 তদন্তকাল অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট হুমকী!