banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের জনগণ মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে, পৌর কর্তৃপক্ষের দাবী নিয়মিতই মশা নিধনে কাজ করছে তারা।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পৌর এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ডে সরেজমিনে মশার এমন অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। 

পৌরসভার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ডেঙ্গু দেখা দেয়ার সময়ে এ পৌরসভায় সরকারি ভাবে ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তা হতে মশা মারার যন্ত্র (ফগার মেশিন) ও ঔষধ কেনা হয়েছে।

এছাড়াও প্রতিমাসে পৌরসভার বাজেটে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় রাখা হয়েছে। প্রতিটি  ওয়ার্ড পর্যায়ে আলাদা আলাদা ভাবে মশা মারতে এসব অর্থ ব্যয় করা হয়। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে শ্রীপুর থানার সামনে ও বাজারের মধ্যে মশা মারার যন্ত্র প্রদর্শন করতে দেখেছি। কিছুদিন পর আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।  পৌরসভায় স্থায়ী-অস্থায়ী শিল্প এলাকায় মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭ লক্ষ। শিল্প কারখানা থাকায় এ পৌর এলাকায় দূষিত বর্জ্যরে কারনে মশার উৎপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে অতি তারাতাড়ি। সে বৃদ্ধির হার অনুযায়ী পৌরসভা কর্তৃক মশা নিধনের দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেই। এতে পৌর সভার নয়টি ওয়ার্ড়ের সাধারণ জনগণ মশার প্রকোপে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন যন্ত্রণায়। মশার কামর থেকে রক্ষা পেতে মশার স্প্রে, কয়েলও মশারি টাঙ্গীয়ে থাকেন। শুধু রাতের বেলায় নয় দিনের বেলার কামড়ায়।

পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোতাহার হোসেন আরজু জানান, ঘরে বাইরে মশার যন্ত্রণায় টিকে থাকা যাচ্ছে না। কয়েল বা মশারী কোনটাই এখন কাজ হচ্ছে না। এছাড়াও  গত ৬ মাস ধরে এ ওয়ার্ডে পৌরসভা কর্তৃক মশা মারার জন্য কেউ আসেনি বলেও জানান তিনি। 

শ্রীপুর বাজার জামে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা কয়েকজন মুসল্লী জানান, মসজিদের আশপাশে ও ভিতরে মশার যন্ত্রণায় ইবাদত করতে কষ্ট হচ্ছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজহার হোসেন জানান, কয়েকদিন ধরে এ এলাকায় মশার প্রকোপ অনেক বেশি।  এ ওয়ার্ডে পৌরসভা কর্তৃক মশা মারার কোন কার্যক্রম হয়েছে বলে আমার জানা নাই।

শ্রীপুর পৌর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও পৌর নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, পৌরসভার প্রতিটি মহাল্লায় মহাল্লায় মশার ঔষদ দিয়ে মশা নিধন করার কথা থাকলেও অজ্ঞত কারনে তা করা হচ্ছে না। গত কয়েক মাস যাবত এলাকায় মশার কামড়ে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। পৌরসভার বাজেটে মশা নিধনে বরাদ্দ থাকলেও এ ওয়ার্ডে মশা মারতে এমন পদক্ষেপ আমার চোখে পড়েনি।  মশার ঔষদ দিয়ে মশা নিধন করা না গেলে সাধারন মানুষের ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু সহ নানা ধরনে রোগ জীবাণু হতে পরে বলেও জানান তিনি ।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা অপসারণ পরিদর্শক জহির রায়হানে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামসুদ্দীন জানান, পৌর এলাকার মশা নিধনে নিয়মিত  কার্যক্রম চলছে। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মশা নিধন করার কাজ করে যাচ্ছি। আপনার ওয়ার্ডের অবস্থা সম্পর্কে পৌরসভার জহির রায়হানের সাথে কথা বলতে পারেন।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র আনিছুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফীন জানান, মশা নিধনে পৌর মেয়রের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর