banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ইজ্জতপুর রেলস্টেশন পুনরায় চালুর দাবিতে রেলপথ অবরোধ ও মানববন্ধন করেছে ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকাবাসী। 

২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ইজ্জতপুর রেলস্টেশনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এসময়  ময়মনসিংহ-ঢাকা রেললাইনে চলাচলকৃত ট্রেন সিডিউল বিপর্যয় দেখা দেয় । দেয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ভাওয়াল এক্সপেক্স ট্রেনটি  ৯.১৪ মিনিটে শ্রীপুর স্টেশন হতে ছেড়ে গেলেও  রাজেন্দ্রপুর স্টেশন পৌঁছে ১০.৪৮ মিনিটে। যেখানে সময় লাগতো ২৫মিনিট। এদিকে, জামালপুর কমিউটার এক্সপেক্স ট্রেনটি শ্রীপুর স্টেশনে আসছিল ৯.৫০ মিনিটে এবং ছেড়ে যায় ১০.৪৫ মিনিটে। এতে ভোগান্তিতে পড়ে কয়েক হাজার যাত্রী। 

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মাস্টার না থাকায় ২০১১ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইজ্জতপুর  রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। স্টেশনটি চালুর দাবিতে আজ সকাল নয়টার দিকে লোকজন রেলস্টেশনের সামনের রেলপথ অবরোধ করেন। এ সময় দেওয়ানগঞ্জ  থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী ভাওয়াল ট্রেন প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকা পড়ে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষুব্ধ লোকজনকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে রেলস্টেশনের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা মানববন্ধন হয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন ইজ্জতপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি  ইফতেখারুল ইসলাম রাজিব সিরাজী,রাজাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান নিহার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম সিরাজী, ইজ্জতপুর উচ্চবিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য কাউসার হোসেন প্রমুখ।

এসময় ইফতেখারুল ইসলাম রাজিব সিরাজী বলেন, ইজ্জতপুর রেলস্টেশন দিয়ে রাজাবাড়ি , প্রহলাদপুর, ও গোসিংগা  ইউনিয়নের লোকজন নিয়মিত ট্রেনে বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতেন। এসব এলাকা থেকে অনেক ছাত্র-ছাত্রী শহরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে।  স্থানীয় ব্যবসায়ীর ঢাকা,টংগী ও জয়দেপুর থেকে ট্রেনে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আসতেন। কিন্তু স্টেশনটি বন্ধ হয়ে পড়ায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তিনি বলেন, ১০ দিনের মধ্যে স্টেশনের কার্যক্রম চালু না করা হলে আমরা  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও মাননীয় সাংসদ বরাবর স্মারকলিপি দিবো। এরপর পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নয়ন ভুঁইয়া জানান, রেললাইন অবরোধ করার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয়া মানুষকে বুঝিয়ে রেললাইন হতে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

জানতে চাইলে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন  মাস্টার হারুন উর রশীদ  বলেন, লোকবল-সংকটের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ইজ্জতপর রেলস্টেশনটি বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি নতুন কিছু মাস্টার নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁরা এখন ঢাকায় প্রশিক্ষণে আছেন। প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার বন্ধ স্টেশনে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে আমরা জেনেছি ।

ট্যাগ: bdnewshour24 রেলস্টেশন মানববন্ধন