banglanewspaper

সন্তানদের স্কুলের পরীক্ষার ফলাফল এবং ভবিষ্যতে কি করে এই নিয়ে চিন্তায় থাকতেন মা মাহফুজা মালেক। বেগম মাহফুজার ধারণা ছিল, তার সন্তানেরা বড় হয়ে কিছুই করতে পারবে না। এই হতাশা থেকেই নিজের দুই সন্তান (অরণী ও আলভী)-কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন মা মাহফুজা মালেক জেসমিন।

হতাশা থেকেই নিজের দুই সন্তানকে (অরণী ও আলভী) শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন মা মাহফুজা মালেক জেসমিন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং এর পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানান।

জিজ্ঞাসাবাদে মাহফুজা মালেক জেসমিন জানান, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি অরনীর গৃহশিক্ষিকা চলে যাওয়ার পর অরনী তার পিতা-মাতার বেড রুমে ৫টার দিকে ঘুমাতে যায়। তখন বাসায় তারা দুভাইবোন, মা মাহফুজা ও বৃদ্ধা দাদী ছিলেন। একই সময়ে আলভি আমান বেড রুমে বিছানায় ঘুমাচ্ছিল। মাহফুজাও ছেলের সাথে একই বিছানায় শুয়ে ছিলেন। অরনী মায়ের সাথে ঘুমানোর জন্য বিছানায় শোয়। মাহফুজা কিছু সময় পর অরনীর গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে উভয়েই বিছানা থেকে মেঝেতে পড়ে যায়। কিছু সময় পর মেয়ের শরীর নিস্তেজ হয়ে গেলে তিনি ছেলে আলভিকে খাটের উপর ঘুমন্ত অবস্থায় একইভাবে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি লাশ দুটির সামনে কিছু সময় ধরে কান্নাকাটি করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের বিবাহবাষির্কী ছিল। পিতা-মাতার ১৪তম বিবাহবাষির্কী উদযাপন উপলক্ষে বনশ্রীস্থ ক্যান্ট চাইনিজ রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে যায় এবং খাওয়ার পর অবশিষ্ট খাবার সঙ্গে নিয়ে বাসায় আসেন। ওই খাবার খেয়ে তারা (অরণী ও আলভী) অসুস্থ হয়ে পড়ে।
 
পরে শিশু দুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের জন্য আল রাজী হাসপাতাল, বনশ্রীতে নিয়ে যান নিহতদের বাবার বন্ধুরা। আল রাজী হাসপাতাল হতে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু দুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
 
পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী শিশু দুইটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রমাণিত হয়।

ট্যাগ: